২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: কী বলেছিল বিদেশিরা?

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: কী বলেছিল বিদেশিরা?

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নৃশংসতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও নাড়িয়ে দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক এবং বিশ্বনেতারা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বিবৃতি দিয়ে জানাচ্ছিল, হিংসার দানবীয় গ্রেনেড সন্ত্রাস মানবতাকে আক্রান্ত করেছে।

২১ আগস্ট হামলার ধরন ও লক্ষ্যস্থল থেকে এটা স্পষ্ট যে শেখ হাসিনাকে হত্যা করাই ছিল ওই গ্রেনেড ও গুলিবর্ষণের মূল উদ্দেশ্য। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সেদিন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসে সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ঘটনার সময় দলীয় নেতা-কর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে তাকে রক্ষা করেন। শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী  আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী প্রাণ হারান।

২১ আগস্টের পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ জানান, বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তিনি উদ্বিগ্ন। গ্রেনেড হামলার কয়েকদিন পর তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিরোধী নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ফোনালাপে পাওয়েল জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন। তারা এদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সরকারের উচিত সব দলের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করা।

২৪ আগস্ট জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনান আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার তীব্র নিন্দা জানান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, কোনো দেশে বিরোধী দলের নেতাকে লক্ষ্য করে হামলা অর্থ হলো গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করা। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

২১ আগস্টের পর ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। হামলার তদন্তে বা যেকোনো প্রয়োজনে তাদের দেশ সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তারা।

ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাস গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্তে করার আহবান জানান।

রাষ্ট্রদূতদের এ ধরণের আহবান থেকে বোঝা যায়, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে তাদের মনে এক ধরণের আশঙ্কা ছিল। শেখ হাসিনার সাথে ১৯ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন।

গ্রেনেড হামলার ঘটনায় গোটা বিশ্ব যখন উদ্বেগ প্রকাশ করছিল, তখন পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া ছিল বিস্ময়কর। ঢাকায় নিযুক্ত পাক রাষ্ট্রদূত সে সময় বলেছিলেন, এটা আওয়ামী লীগেরই কাজ। এ ঘটনায় তারাই তো লাভবান হবে। তারা সহানুভূতি পাবে। এমনকি ঘটনার আগের মুহূর্তে শেখ হাসিনা আইভি রহমানকে মঞ্চে ডেকে নিতে চেয়েছিলেন। সে কথাও তিনি বলেছিলেন। শেখ হাসিনার জ্ঞাতসারেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ওই পাকিস্তানি কূটনীতিক বলেছিলেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *