সিনহা হত্যায় সহযোগিতা করে পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী : র‌্যাব

সিনহা হত্যায় সহযোগিতা করে পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী : র‌্যাব

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় পুলিশের করা মামলার তিনজন সাক্ষী সরাসরি জড়িতদের সহযোগিতা করেছিল বলে প্রমাণ পেয়েছে র‌্যাব।
nift

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ দাবি করেন।

আশিক বিল্লাহ বলেন, র‌্যাব শুধু হত্যাকেন্দ্রিক মামলা তদন্ত করবে। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঘটনার দিন সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাত ও শিপ্রাকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা।

এর আগে বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সিনহা হত্যা মামলায় পুলিশের করা মামলার ওই তিন সাক্ষীর ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীকে ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ওই তিন সাক্ষীকে গ্রেফতার করেন র‌্যাব-১৫ সদস্যরা। তিন আসামি হলেন- নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াদ। তারা টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা দুই মামলার সাক্ষী।

ওই তিন সাক্ষী গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন- এ হত্যার ঘটনা তারা কেউ নিজের চোখে দেখেননি। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে তাদের ডেকে নেওয়া হয়। পরে সকালে টেকনাফ থানায় নিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। পরে জানতে পারেন তাদের সাক্ষী করা হয়েছে।

সিনহা হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলার তদন্তভার ইতিমধ্যে র‌্যাবকে দেয়া হয়েছে। এত দিন মামলা দুটির তদন্ত পুলিশ করছিল।

গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (৩৬)। তার ওপর গুলি চালান বাহারছড়া ফাঁড়ির দায়িত্বরত পুলিশ ইন্সপেক্টর লিয়াকত। নিহত সিনহা রাশেদকে ঢাকায় সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই ঘটনায় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীসহ ২০ জনকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে পুরো নতুন টিম দেয়া হয়েছে।

দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া রাশেদ ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য গত প্রায় একমাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন। ওই কাজেই তার সঙ্গে ছিলেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত ও শিপ্রা।

ঘটনাস্থল থেকে মদ ও গাঁজা রাখার অভিযোগে শিপ্রাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করা হয়। আর সিফাতের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে পুলিশ।

তবে ঘটনার যে বিবরণ পুলিশ দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সিনহা হত্যা : তিনজন গ্রেফতার

হাত স্যানিটাইজ করে ঘুষ নিলেন ওসি!

এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট কক্সবাজারের টেকনাফ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ্’র আদালতে ওসি প্রদীপ ও মো. লিয়াকতসহ নয়জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। মামলার আসামি টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলিসহ সাত পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *