লাইসেন্সবিহীন কুরিয়ারের দৌরাত্ম্য, কঠোর হচ্ছে সরকার

লাইসেন্সবিহীন কুরিয়ারের দৌরাত্ম্য, কঠোর হচ্ছে সরকার

দেশে লাইসেন্সধারী কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ৭০টি হলেও এর ৮০ ভাগেরই মেয়াদ পার হয়ে গেছে। একই সঙ্গে লাইসেন্স ছাড়াই অনেক কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যার সংখ্যা প্রায় ৫ শতাধিক বলে জানা গেছে। লাইসেন্সবিহীন এমন কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কুরিয়ার ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া কুরিয়ার ব্যবসা করা যাবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সধারীদের লাইসেন্স নবায়ন করতে বলা হয়েছে, অন্যথায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে তাদের।

জানা গেছে, কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতি নজরদারি না থাকায় ইচ্ছামতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। স্বচ্ছতা না থাকায় বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মালামাল বহনও করছে—এমন অভিযোগ রয়েছে কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর বিরুদ্ধে।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একটি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী বলেন, লাইসেন্স ছাড়াই অনেক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান আত্মপ্রকাশ করে কোনও ধরনের বাধা ছাড়াই সেবা দিচ্ছে। তাহলে কুরিয়ারের লাইসেন্স নিয়ে আমাদের কী লাভ হলো। কুরিয়ার সার্ভিসের লাইসেন্স পাওয়া অনেক কঠিন একটি কাজ। এই কাজটিই অনেকে করে না। তারা সার্ভিস ঠিকমতো না দিয়ে বাজারে বদনাম তৈরি করে, তার খেসারত আমাদেরও দিতে হয়।

অভিযোগ রয়েছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ই-ক্যাব অনেক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানকে সদস্য করেছে কোনও ধরনের কুরিয়ার লাইসেন্সের এনওসি ছাড়া। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, অনেক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ই-ক্যাবের সদস্য হয়েছে তাদের সবার লাইসেন্স নেই। তারা শিগগিরই আবেদন করবে বলে আমাদের জানিয়েছে। আমরা এরইমধ্যে সবাইকে চিঠি দিয়েছি লাইসেন্স নেওয়ার জন্য।

তিনি জানান, অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আছে যারা নিজেরা ডেলিভারি করছে, ই-কমার্সভিত্তিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান দিয়ে করাচ্ছে। সবাইকে লাইসেন্স নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ই-কমার্স ও কুরিয়ারে বিশেষ করে ডেলিভারিতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। এসব সমস্যা দূর করতে আমরা ডেলিভারিম্যানদের জন্য বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) সলিউশন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছি। ই-ক্যাব থেকে সরকারকে এই বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ডেলিভারিম্যানদের বায়োমেট্রিক সলিউশনের আওতায় আনা গেলে তাদের ট্র্যাক করতে সুবিধা হবে। আর ট্র্যাক করা গেলেই অনেক সমস্যার সমাধান এমনিতেই হয়ে যাবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কোনও কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যাবে না। কেউ পরিচালনা করতে পারে না। কুরিয়ার বিষয়ে বেশি ঢিলাঢালা হয়ে যাওয়ায় কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো যা ইচ্ছা তাই করছে। যেভাবে খুশি পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনও জবাবদিহি নেই। এটা আর থাকবে না

তিনি জানান, শুধু লাইসেন্স দেওয়াই নয়, কুরিয়ার সেবার পুরো প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটালাইজড করা হবে। ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হবে। প্যাকেটটা কোথায় আছে, ডেলিভারি কবে হবে, কোথায় হয়েছে, হারিয়ে গেলে সর্বশেষ লোকেশন কোথায় ছিল, তাও ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *