‘রাশিয়া সব সময় বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু’

‘রাশিয়া সব সময় বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রাশিয়া সব সময় বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের পক্ষে তিনবার জাতিসংঘে ভোট দেওয়াসহ বাংলাদেশের সার্বিক সহযোগিতা করে রাশিয়া।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতসহ ব্লু ইকোনমিতে রাশিয়ার বিনিয়োগ ও সহায়তা কামনা করেন তিনি বলেছেণন, এক্ষেত্রে রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে এবং সে দেশের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ড. মোমেন। গত শুক্র ও শনিবার পররাষ্ট্র সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের মহা-পরিচালকের সমমান ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা পরিদর্শন কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরিদর্শনকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং এ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে ওৎপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের ভিয়েনা ও মস্কো মিশনের মাধ্যমে এ প্রকল্পের বিষয়ে আইএইএ ও রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন, নিরাপত্তা রক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার সুবিধার্থে বাংলাদেশি কূটনীতিক ও সম্ভাব্য রাষ্ট্রদূতদের জন্য সরেজমিনে এ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। এছাড়া পারমাণবিক শক্তিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুবিধার্থে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের এ আয়োজন করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের গর্ব এবং এদেশের ইতিহাসের অংশ হিসেবে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এটা আমাদের জন্য একটা বড় অর্জন। পারমাণবিক শক্তিকে আমরা নেতিবাচক কাজে ব্যবহারের বিপক্ষে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এ বিষয়ে অত্যন্ত সোচ্চার এবং পৃথিবীর মধ্যে এটা অন্যতম দৃষ্টান্ত। তবে মানুষের ভালো কাজে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে আমরা সব সময় সমর্থন করি।

বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কেবল শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করতে চায়। পারমাণবিক শক্তি ভালো কাজে ব্যবহারের এ প্রকল্প বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি আরও বাড়াবে।

পরিদর্শন শেষে এ প্রকল্পের অগ্রগতিসহ সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন প্রকল্পের রাশিয়ার নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান। যথা সময়ে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে উত্তরা গণভবন সফর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, এ বাড়িকে উত্তরা গণভবনে রূপান্তর করে বঙ্গবন্ধু উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্য ও স্মৃতিকে ধরে রেখেছেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *