যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত

যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত

বর্তমান প্রজন্মের কাছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সবচেয়ে বড় দাবি। স্বাধীনতার এত বছর পরে এসেও যুদ্ধাপরাধীদের জাতি এবং রাষ্ট্র ক্ষমা করতে পারেনি। তাহলে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তাদের নিয়ে সরকার আর রাষ্ট্রের কেমন চিন্তাভাবনা ছিল সেটাও এই প্রজন্ম জানতে চাইবেই। বিশেষ করে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, যার হাত ধরে এইসব কলঙ্কিত যুদ্ধাপরাধীদের হটিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে কি ভেবেছিলেন বা কি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন- সেটা আমাদের অনেকেরই অজানা।

বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে বেশকিছু উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেগুলো বিষয়েই আমরা আজ জানবো-

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার

বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি ‘বাংলাদেশ কোলাবরেটরস স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল অর্ডার’ জারি করে। এতে দালাল, যোগসাজশকারী কিংবা কোলাবরেটরদের সংজ্ঞায়িত করা হয় এভাবে—

—প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে বস্তুগত সহযোগিতা প্রদান বা কোনো কথা, চুক্তি ও কার্যাবলির মাধ্যমে হানাদার বাহিনীকে সাহায্য করা।

—গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বা যুদ্ধের চেষ্টা করা।

—মুক্তিবাহিনীর তত্পরতার বিরুদ্ধে ও মুক্তিকামী জনগণের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

—পাকিস্তানি বাহিনীর অনুকূলে কোনো বিবৃতি প্রদান বা প্রচারে অংশ নেওয়া এবং পাকিস্তানি বাহিনীর কোনো প্রতিনিধিদল বা কমিটির সদস্য হওয়া। হানাদারদের আয়োজনে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া।

চার ধরনের অপরাধীর বিচার

পরবর্তীকালে একই বছরে অর্থাৎ ১৯৭২ সালেই এই আইন দুই দফা সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনীতেও চার ধরনের অপরাধীকে ক্ষমা করা হয়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে নেই, তাদের ক্ষমা করা হয়। কিন্তু যারা লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও হত্যা—এই চারটি অপরাধ করেছে, তাদের ক্ষমা করা হয়নি।

১৯৭৩ সালে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩৭ হাজার ৪৭১ জনকে দালাল আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে অক্টোবর পর্যন্ত দুই হাজার ৮১৮টি মামলার সিদ্ধান্ত হয়। এতে একজনের মৃত্যুদণ্ডসহ ৭৫২ দালাল দণ্ডিত হয়। তত্কালীন সরকার আইনগত ব্যবস্থা ত্বরিত করার জন্য ৭৩টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল। বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ১১ হাজার আটক থাকে।

উপরন্তু বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালের ১৯ জুলাই ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট’ জারি করেন, যা পরবর্তী সময়ে আইন হিসেবে সংবিধানে সংযোজিত হয় এবং অদ্যাবধি তা বহাল রয়েছে। ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল।

১৯৭৩ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধানের ১২ ও ৩৮ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সংবিধানের ৬৬ ও ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী তথাকথিত ধর্ম ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার বাতিল করা হয়েছিল।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *