বিশাল বহরে ভাসানচরের পথে রোহিঙ্গারা

বিশাল বহরে ভাসানচরের পথে রোহিঙ্গারা

বিশাল বহর নিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরের দিকে রওনা হয়েছে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা।

বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে দুই দফায় মোট ২০টি বাস রোহিঙ্গাদের নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে ছেড়ে যায়।

রোহিঙ্গাদের বহনকারী বাসগুলো তাদের চট্টগ্রামের নৌবাহিনীর জেটিতে পৌঁছে দেবে। আর সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে পৌঁছে যাবে ভাসানচর। তবে বাসগুলোতে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর মধ্যে দিয়ে শুরু হলো মিয়ানমার থেকে অভিবাসী হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১ লাখ রোহিঙ্গাকে অস্থায়ীভাবে ভাসানচরে স্থানান্তরে সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে আগ থেকে নৌবাহিনীর ১৪টি জাহাজ প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে।

জানা যায়, কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে র‍্যাব-৭ ও র‍্যাব-১৫।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, ডিসেম্বর মাসেই আগ্রহী রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এ দিকে গত বুধবার জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী দিনে কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জাতিসংঘ অবগত আছে। তবে শরণার্থীদের স্থানান্তর প্রস্তুতি কিংবা রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংস্থাটিকে যুক্ত করা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের ব্যাপারে জাতিসংঘ তার আগেকার অবস্থানেই রয়েছে, অর্থাৎ ভাসানচরে যাবার ব্যাপারে, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যেন জেনে-বুঝে এবং মুক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য জায়গাটি সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক, সুনির্দিষ্ট ও হালনাগাদ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যেন তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নিপীড়নের মুখে দেশটি থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ওই বছরের নভেম্বর মাসে কক্সবাজার থেকে এক লক্ষ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেয় সরকার।

আশ্রয়ণ-৩ নামে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে। কিন্তু ২০১৮ সালে যখন প্রথম তাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়, তখন থেকেই রোহিঙ্গারা সেখানে যাবার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় গত নভেম্বরে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের একটি দলকে ভাসানচর পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে ভাসানচরে স্থানান্তরে সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *