বঙ্গবন্ধু সারা জীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন- শিল্পমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু সারা জীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন- শিল্পমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদশে সরকারের শিল্পমন্ত্রী ও নরসিংদী- ৪ আসনরে সংসদ সদস্য এড. নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু সারা জীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি সকল বিষয়ে জানতেন আর তাই তিনি নেতৃত্ব দিতে পেরেছেন। তৎকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু অনেক বড় বড় নেতাদের সাথে চলাফেরা করেছেন অনেকের সাথে তাঁর মেলামেশা ছিল। যার ফলে তিনি দেশ গড়ার কাজে যাকে যেখানে দরকার তাকে সেখানেই ব্যবহার করেছেন।

স্বাধীনতার পূর্ব মুহুর্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরো বলেন, আইয়ুব খান, ভুট্টো বঙ্গবন্ধুকে অনেক লোভ দেখিয়েছেন কিন্তু সেই লোভের ফাঁদে পা দেননি বঙ্গবন্ধু। সেদিন যদি তিনি লোভে পা দিতেন তাহলে আজকে আমাদের কি অবস্থা হতো? বাংলাদেশের কিছু বিপদগামী সেনা সদস্যরা ১৫ আগষ্ট ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে। যেদিন তাকে হত্যা করা হয় সেদিন নরসিংদীর সাবেক এমপি মুছলেহ উদ্দিন ভূইয়ার সাথে আমি ঢাকায় অবস্থান করছিলাম। সেই দিনের স্মৃতি মনে হলে আজও গা শিউরে উঠে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

শনবিার (১৫ আগস্ট) বিকেলে নরসিংদী শিশু একাডেমীতে জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনের সভাপতিত্বে আয়োজতি সভায় আরো বক্তব্য রাখনে, নরসিংদী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূইয়া, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন ও সেক্টর কমান্ডার ফোরাম ৭১ নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মোতালিব পাঠান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মময় জীবনের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নরসিংদী সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর গোলাম মোস্তাফা মিয়া।

প্রধান অতিথির আলোচনায় শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে শেখ কামাল যে স্কুলে লেখাপড়া করতো সেই স্কুলে আমিও লেখাপড়া করতাম। সেই সুবাধে তার সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়। সেই হিসেবে বঙ্গবন্ধুর বাসায় যাতায়াত ছিল। সেই থেকে বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখেছি ও জেনেছি। তিনি সব সময় শিক্ষিত মানুষকে মূল্যায়ন করতেন আর দেশ গড়ার কাজে তিনি তাদেরই ব্যবহার করেছেন। তিনি এই পরাধীন দেশকে মুক্ত করার স্বপ্ন নিয়ে সেই ৫২ এর ভাষা আন্দোলন ৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধে অনেক ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ১৯৭০ সালের নিবার্চন অনুষ্ঠানের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন আর এতে তিনি সফলও হয়েছেন। তথাপী কিন্তু একটি কুচক্রি মহল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট তাদের স্বপরিবারে হত্যা করে। সেই দিনের দুর্বিসহ যন্ত্রনা বুকে নিয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করছেন। আজকে তার নেতৃত্বে এমডিজি অর্জন করেছি, এসডিজি অর্জন করতে যাচ্ছি এবং বর্তমান করোনা পরিস্থিতিও অনেকটা নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়েছে।

এর আগে শিল্পমন্ত্রী স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী, বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবনের উপর আলোকচিত্র প্রদর্শন পরিদর্শন করেন । সবশেষে শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু কিশোরদের মাঝে পুরস্কার তুলে তিনি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *