পরীক্ষায় অংশ নিতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সরকারের অনুরোধ

পরীক্ষায় অংশ নিতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সরকারের অনুরোধ

সেশনজট দূর করতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর বদ্ধপরিকর জানিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

সোমবার (৯ নভেম্বর) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. একেএম আহসান হাবীব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ করা হয়েছে।

করোনা মহামারির মধ্যে প্রফ পরীক্ষা না নেওয়া, সেশনজট নিরসন করে যথাসময়ে কোর্স সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৬০ মাসের বেশি বেতন না নেওয়া ও মহামারির সময় পরীক্ষা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হলে দায়ভার কর্তৃপক্ষকে নেওয়ায় দাবিতে রবিবারও (৮ নভেম্বর) শাহবাগে অবরোধ করেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পেছানো নিয়ে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর জানায়, দেশে বর্তমানে ৩৬টি সরকারি ও ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থায় ভিন্নতা রয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক পাঠদানের সঙ্গে প্রতিক্ষেত্রে ব্যবহারিক শিক্ষার আবশ্যিকতা রয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষার এমবিবিএস ও বিডিএস শিক্ষার্থীদের বছরে মে ও নভেম্বর/ফেব্রুয়ারি ও আগস্টে দুই টার্মে প্রফেশনাল পরীক্ষা হয়ে থাকে। একজন ছাত্রকে চিকিৎসক হওয়ার আগে চারটি প্রফেশনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে অন্যান্য শিক্ষা ব্যবস্থার মতো চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবং চিকিৎসা শিক্ষার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে সেশনজট থেকে মুক্ত রাখতে পরীক্ষা নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থা ভিন্নধর্মী হওয়ায় বিদ্যমান বিধিতে পরীক্ষা ব্যতীত অন্য কোনোভাবে একজন শিক্ষার্থীকে পরবর্তী ধাপে উর্ত্তীন্ন হওয়ারও সুযোগ নেই।

তাই, সব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন মেডিকেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও বিএমডিসির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একাধিক সভার মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

এতে সবার সম্মতিক্রমে আগামী ২০২১ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে হতে নিয়মিত/অনিয়মিত ব্যাচের প্রফেশনাল পরীক্ষাগুলো স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের গাইডলাইন ও স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পর্যাক্রমে ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য প্রফেশনাল পরীক্ষাগুলো নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এরই মধ্যে অনিয়মিত ব্যাচের চূড়ান্ত প্রফেশনাল পরীক্ষা চলমান আছে।

পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়ের এক মাস আগে শুধু পরীক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোস্টেলে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয় এবং অন্য কোনো শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করতে পারবেন না।

‘স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সবাইকে কোন প্রকারের আন্দোলনে অংশ না নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখে শিক্ষার্থীদের সেশনজট দূর করতে বদ্ধপরিকর।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *