দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে

দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে

সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যাতে কোনো অবস্থাতেই আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। হঠাৎ করে কেউ দলে এলে তাকে প্রথমেই নেতা বানানো যাবে না। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে কোনো অবস্থাতেই অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। এটা দলের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন ৷

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলী, দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উদযাপনের প্রস্তুতি উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে সীমিত পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। জাতীয় সম্মেলনের আগে ও পরে ৩১টি সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। করোনা সংক্রমণের বাস্তব কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে অধিকাংশ পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রীয় দফতরে জমা পড়েছে। কমিটি গঠনে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় নেত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা মেনেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে। দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। হঠাৎ করে কেউ দলে এলে তাকে প্রথমেই নেতা বানাতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

‘সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে কোনো অবস্থাতেই অনুপ্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ বিষয়টি আমি আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আপনারা যারা কমিটি করেছেন বা করবেন তাদের এ নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে। ’

তিনি বলেন, সাংগঠনিকভাবে আটটি টিম প্রস্তুত করে নেত্রীর কাছে জমা দিয়েছি। অনুমোদন দিলে এই টিমগুলো আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি সর্বদা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাংগঠনিক কর্মসূচি পরিচলনার নির্দেশ দিয়েছেন।

করোনা সংক্রমণ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, গতবছর ডিসেম্বর থেকে সারাবিশ্ব করোনা মহামারির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মানুষের জীবনের স্বাভাবিক গতিপথ পাল্টে দিয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় কখন এর শেষ বিন্দু, সেটা এখনো পর্যন্ত অনিশ্চিত ও অনির্ধারিত।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন প্রসঙ্গে ওবায়দুল বলেন, জন্মদিনে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা বঙ্গবন্ধুকন্যার পছন্দ নয়। জন্মদিন পালনে নেত্রী তেমন একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এটা পালন করতেও চান না। তারপরও আমাদের এটা দায়িত্ব। শেখ হাসিনার জন্মদিন বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

লীগ দিনটি উপলক্ষে সারাদেশে সব মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং মন্দির, প্যাগোডা গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ ৷

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *