করোনাকে ঘায়েল করতে আইসিটি বিভাগের নতুন ৩ উদ্যোগ

করোনাকে ঘায়েল করতে আইসিটি বিভাগের নতুন ৩ উদ্যোগ

দেশে দেশে ভয়াল আগ্রাসন চালাচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহামারিতে রূপ নেওয়া এই ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের আইসিটি বিভাগ প্রযুক্তিভিত্তিক একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ওয়েবসাইট তৈরি, অ্যাপস নির্মাণ, ডিজিটাল ম্যাপিং, হ্যাকাথন ইত্যাদি। তবে এসবের পাশাপাশি আরও তিনটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আইসিটি বিভাগ। এরই অংশ হিসেবে চালু হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ বট। পাশাপাশি চালুর অপেক্ষায় আছে ভাইবার বট ও ভয়েস অব ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম।

এরই মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট চালু হয়েছে। আর ভাইবার চ্যাটবট আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর অপেক্ষায়। পাশাপাশি প্রস্তুত করা হয়েছে ভয়েস অব ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম। আইসিটি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের সাড়ে তিন কোটি ও ভাইবারের দেড় কোটি ব্যবহারকারী রয়েছেন।

জানা গেছে, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবটে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রশ্ন করে করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত দেশি-বিদেশি সব তথ্য পাওয়া যাবে। প্রয়োজনীয় তথ্য পেতেও চ্যাটবটে লগইন করা যাবে।

এ ব্যাপারে আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘ভাইবারেও আমরা চ্যাটবট চালু করতে যাচ্ছি। এরই মধ্যে সফট লঞ্চিং সম্পন্ন হয়েছে। আমরা কয়েকদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করব।’

তিনি জানান, আইসিটি বিভাগ কিছুদিন আগে লাইভ করোনা টেস্ট ডট কম নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে। সেই সাইট থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেই পরিমাপ করতে পারবেন যে, তিনি করোনা ঝুঁকিতে রয়েছেন কিনা। সেই সাইটটিকে এবার ভাইবার চ্যাটবটে ইন্টিগ্রেটেড করে দেওয়া হবে। ফলে ভাইবার ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেনে নিতে পারবেন, তিনি করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন কিনা।

চ্যাটবট বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও চ্যাটবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রেনিউর ল্যাবের প্রধান নির্বাহী আরিফ নিজামি বলেন, ‘দেশে বিশাল মোবাইলফোন ব্যবহারকারীর একটা অংশ এখন হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবার ব্যবহার করে। এই দুটি প্ল্যাটফর্মে বটের ব্যবহার আগেই শুরু হয়েছে। আমাদের প্রেনিউর ল্যাব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার বট তৈরি করে দিয়েছে। ‍এটা দিয়ে অফিসের মিটিং, জরুরি কাজ সারা যাচ্ছে। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবারে টুল হিসেবে যে বট ব্যবহার হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট দুই ওটিটি (ওভার দ্য টপ) সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানই তৈরি করে দিয়েছে।’

এ দিকে, আইসিটি বিভাগ সূত্র জানা গেছে, সিটিজেন জার্নালিজমের মতো একটি প্ল্যাটফর্ম ‘ভয়েস অব ইয়ুথ’ তৈরি করা হয়েছে। যেকেউ যে কোনো জায়গায় ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রকৃত তথ্য, ছবি, ভিডিও ক্লিপ, সাউন্ড ক্লিপ ইত্যাদি এই প্ল্যাটফর্মে দিতে পারবেন। রিপোর্ট পাঠাতে পারবেন। এই প্ল্যাটফর্মের একটি কর্তৃপক্ষ থাকবে। তারা যাচাই-বাছাই করে সংবাদটির সত্যতা নির্ণয় করবেন। ফলে গুজবসহ যে কোনো ধরনের অপপ্রচার রোধ করা যাবে। এর মাধ্যমে জনগণের সামনে প্রকৃত সত্যটা তুলে ধরে যাবে। করোনা ভাইরাসজনিত এই সংকটকালে এটা আরও বেশি জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *