এসপি হারুনসহ ডিএমপির ৫ কর্মকর্তার বদলি

এসপি হারুনসহ ডিএমপির ৫ কর্মকর্তার বদলি

নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি), আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দফতরে বদলির পর আবারও বদলি করা হয়েছে।

এতদিন তিনি ডিএমপির প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড ওয়ার্কশপ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) পদে ছিলেন। তবে এ দায়িত্বকালের মাস না পেরোতেই সেখান থেকে তাকে সরিয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনারের (ডিসি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর আগে তিনি নারায়ণগঞ্জের এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছরের ৩ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বদলি করে তাকে পুলিশ অধিদফতরে পুলিশ সুপার (টিআর) পদে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর এ বছরের ১৫ জুন তাকে পুলিশ সদরদফতর থেকে বদলি করে ডিএমপিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার আরও ৪ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বদলি করা হয়।

বদলিকৃত অন্য কর্মকর্তারা হলেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে লালবাগ বিভাগে; লালবাগ বিভাগের ডিসি মুনতাসিরুল ইসলামকে লজিস্টিকস বিভাগে; লজিস্টিকস বিভাগের ডিসি মো. জিয়াউল আহসান তালুকদারকে পিওএম-পশ্চিম বিভাগে ও পিওএম-পশ্চিম বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড ওয়ার্কশপ বিভাগের ডিসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ আগেও ঢাকা মহানগর পুলিশে ছিলেন। ডিএমপির অপরাধ বিভাগের লালবাগের উপ-কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ও তেজগাঁও বিভাগেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ঢাকা মহানগরে কাজ করার সময় বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর হামলার ঘটনায় আলোচিত হন হারুন। এরপর কয়েক বছর গাজীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক।

২০১৮ সালের মে মাসে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় বিএনপি তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলে। এরপর ওই বছরের আগস্টের শুরুতে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশে বদলি করা হয়।

একই বছরের ২ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে হারুন অর রশীদকে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করে সরকার।

গেল বছরের নভেম্বরের শুরুতে এক ঘটনায় হঠাৎ করেই এসপি হারুনের বদলির আদেশ আসে। নারায়ণগঞ্জ থেকে সরিয়ে তাকে পাঠানো হয় পুলিশ সদর দফতরে।

গত ২ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি হারুন পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার এম এ হাশেমের ছেলে আমবার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজের স্ত্রী ও সন্তানকে আগেরদিন ভোররাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে আটকের কথা জানান। তিনি দাবি করেছিলেন, তাদের গাড়ি থেকে ইয়াবা, মদ ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ আসে, চাঁদা না পেয়ে শওকত আজিজের স্ত্রী-সন্তানকে ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে ধরে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে গিয়েছিলেন এসপি হারুন।

ইন্টারনেটে এর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ৩ নভেম্বর হারুনের বদলির আদেশ আসে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হবে বলেও ওই সময় জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *