এনআইডি সেবায় কোনো গাফিলতি নয় : সিইসি

এনআইডি সেবায় কোনো গাফিলতি নয় : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সেবা নিয়ে কোনও গাফিলতি করা যাবে না। এই সেবা চালু না থাকলে স্থবির হয়ে পড়তো ব্যাংকিং ব্যবস্থা। করোনায় সহায়তা দেওয়া সম্ভবত হতো না।

কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএমএস) নিয়ে বুধবার (২০ মে) কর্মকর্তাদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধনের সময় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে তিনি এসব কথা বলেন ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেন, সারাবিশ্বে সব অফিস যখন বন্ধ, নির্বাচন কমিশন তখন এনআইডি সেবা দিচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শুধু নিজেদের কাজ নয়, সরকারি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন।’ জাতীয় পরিচয় পত্রের কারণে সরকারি অনুদান বিতরণে দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, এনআইডি ছাড়া করোনাকালো পোশাক শ্রমিকরা বাইরে যেতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তা এনআইডি ছাড়া দেওয়া হচ্ছে না। কাজেই এটা রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, জীবন ও জীবিকার টানাপড়েনের মধ্যে প্রয়োজন সীমাবদ্ধ হতে পারে না। তাই এনআইডি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অনলাইনে এনআইডি ডাউনলোড করে নেওয়ার সেবা চালুর দিনই ৬১ হাজার মানুষ আবেদন করেছে।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে এনআইডি সেবা একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু সব সময়ই একটা সুযোগ সন্ধানী শ্রেণি থাকে। অনলাইনের এই সেবায় কম্পিউটারের দোকান থেকে এনআইডি প্রিন্ট করার সুযোগ হয়। মানুষের মধ্যে এই ধারণা যেন না জন্মায় যে, কম্পিউটারের দোকানে গেলেই এনআইডি পাওয়া যায়। আবার কেউ কেউ একাধিক বার প্রিন্ট করে এটার অপব্যবহার করতে পারে।  কাজেই এই সেবার কেউ যাতে অপব্যবহার করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনার শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী বলেন, ১২ বছর আগে নির্বাচন কমিশনই দেশে সবচেয়ে বড় আইটি প্রকল্প হিসেবে এনআইডি কার্যক্রম শুরু করে। ধীরে ধীরে আরও উন্নত হবে। অনলাইনে এনআইডি সেবা কার্যক্রম শুরু একটা বড় সাফল্য। নির্বাচন কমিশনের মতো ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেবার মতো দ্বিতীয় আর কোনও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে নেই।

তিনি বলেন, এভাবে প্রবাসীদের ভোটার করা যায় কিনা এবং ভবিষ্যতে অনলাইনে ভোটা দানের জন্য প্রবাসীদের সুযোগ করে দেওয়া যায় কিনা, সেটা নিয়ে আমাদের ব্রেন স্টর্মিং করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, আগে যখন উপজেলা অফিসে আবেদন করে এনআইডি সেবা নেওয়া যেতো, তখন হয়রানি করা হতো। এখন ঘরে বসেই সেবা পেলে সেই সমস্যাটা আর থাকবে না।

ইসি সচিব মো. আলমগীর বলেন, তিনটি কারণে আমরা অনলাইনে এনআইডি সেবা দিচ্ছি। সময় কমানো, ব্যয় কমানো এবং সেবা গ্রহীতার ভোগান্তি কমাতে এ উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।

অনলাইনে ভোটার করে নেওয়া, এনআইডি ডাউনলোড সুবিধা প্রদান, সংশোধন, স্থানান্তর সংক্রান্ত সেবা গত ২৬ এপ্রিল চালু করে নির্বাচন কমিশন। এই সেবা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার সিএমএস পরিচালনা পদ্ধতি শেখাতেই এখন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তিন সপ্তাহব্যাপী এই কার্যক্রমে মোট ২ হাজার ৩২০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *