আপাতত সিলগালা হচ্ছে না সাহাবউদ্দিন মেডিকেল

আপাতত সিলগালা হচ্ছে না সাহাবউদ্দিন মেডিকেল

করোনা ভাইরাস চিকিৎসা ও পরীক্ষায় প্রতারণায় অভিযুক্ত সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আপাতত সিলগালা করা হচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময় চাইলে সিলগালার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম বলেন, অভিযানে গিয়ে আমরা হাসপাতালের সমস্ত কাগজপত্র তল্লাশি করে দেখেছি, ২০১৯ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়। এছাড়াও বিভিন্ন অনিয়ম ও রোগীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। নানা অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালটি সিলগালার আদেশ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, তবে হাসপাতাল সিলগালার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেশ কিছুদিন সময় চেয়েছে। তাছাড়া তারা লাইসেন্স নবায়ন করতে আবেদন করেছে। এসব কারণেই আমরা হাসপাতালটি এখনই সিলগালা না করার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছি। তবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত রবিবার (১৯ জুলাই) করোনার ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে গুলশানের সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সরকারের অনুমোদন পাওয়ার আগে থেকেই এ হাসপাতালটি কোভিড-১৯ টেস্ট করছিল। পরে কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য হাসপাতালটি অনুমোদন পেলেও এখানে আর্টিফিশিয়াল মেশিন না থাকায় অনুমোদন বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। করোনা টেস্টের জন্য রোগীদের কাছ থেকে তিন হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া কোভিড-১৯ নেগেটিভ রোগীদের পজেটিভ রিপোর্ট দিয়ে হাসপাতালের আইসিউতে এবং কেবিনে ভর্তি রেখে ভুয়া বিলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

অভিযানকালে এসব অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আবুল হাসনাত (৫২) এবং ইনভেন্টরি অফিসার শাহরিজ কবির সাদিকে (৩৩) গ্রেফতার করা হয়।

পরদিন সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর গুলশান থানায় ওই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে র‌্যাব বাদী হয়ে একটি মামলা করে। মামলায় সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আল ইসলাম (৩৪), সহকারী পরিচালক ডা. মো. আবুল হাসনাত (৫২) এবং ইনভেন্টরি অফিসার শাহরিজ কবির সাদির (৩৩) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার রাতেই বনানীর একটি হোটেল থেকেসাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফয়সাল আল ইসলামকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফয়সাল আল ইসলামসহ তিনজনের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *