আগামী বছর শুরু হবে কালুরঘাট রেল-সড়ক সেতুর নির্মাণ কাজ: রেলমন্ত্রী

আগামী বছর শুরু হবে কালুরঘাট রেল-সড়ক সেতুর নির্মাণ কাজ: রেলমন্ত্রী

রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘আগামী বছরের প্রথম দিকে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। যেখানে রেলপথ ও সড়ক একসাথে থাকবে।’

বুধবার (০৭ অক্টোবর) চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর একটি রেল-কাম সড়ক সেতুর নির্মাণ স্থান পরিদর্শনকালে রেলমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।।

তিনি বলেন, এই সেতু আগেই নির্মাণ করা যেতো। পৃথক রেলসেতু হবে নাকি রেল ও সড়ক একসঙ্গে হবে তা নিয়ে একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রেল-কাম রোড সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদেশি ঋণদানকারী সংস্থা কোরিয়ান ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) সাথে আলোচনা হচ্ছে। সবকিছু এখন ঠিক করা হয়েছে, আশা করা যাচ্ছে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।

মো. নুরুল ইসলাম সুজন আরও জানান, ‘সেতু নির্মাণের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে, স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখার জন্যই আমি এসেছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামবাসীর জন্য যেমন এই সেতু খুবই দরকার তেমনি ভবিষ্যতে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি রেললাইন সংযোগ স্থাপনের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা জরুরি। ২০২২ সালের মধ্যে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন চালু হয়ে যাবে। একই সময়ের মধ্যে যাতে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করা যায় সেই চেষ্টা করবো আমরা।’

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন গরিব-দুঃখী মেহনতী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর দর্শন নিয়ে কাজ করছে। আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করা। সেতু নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।

উল্লেখ্য, কালুরঘাট সেতুটি ১৯৩১ সালে মিটার গেজ লাইন বিশিষ্ট রেল সেতু হিসেবে নির্মিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬২ সালে সড়ক সেতু যুক্ত করে রেল-কাম সড়ক সেতুতে রূপান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেতুটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এটি নির্মিত হলে নিরবচ্ছিন্ন রেল পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা যাবে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরের অপারেশনাল বাধা দূর হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত করা এবং আঞ্চলিক বিনিময় সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হবে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য বৃহত্তর করিডোর তৈরি হবে, বাণিজ্যিক রাজধানীর যানজট হ্রাস পাবে, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশবিশেষ হিসেবে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ৮ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোসলেম উদ্দিন এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রণব কুমার ঘোষ, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামানসহ রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *