অবৈধভাবে টাকা পাচার করলে কঠোর ব্যবস্থা : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অবৈধভাবে টাকা পাচার করলে কঠোর ব্যবস্থা : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিদেশে টাকা পাচারের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, কানাডায় খবর নিয়েছি, প্রাথমিকভাবে কিছু সত্যতা পেয়েছি। মনে করছিলাম রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে। কিন্তু দেখা গেলো রাজনীতিবিদ চারজন। সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা বেশি। এছাড়াও কিছু ব্যবসায়ীও আছে। কিন্তু বিদেশে যদি কেউ বৈধভাবে টাকা নেয়, তাহলে কোনো আপত্তি নেই। তবে অবৈধভাবে পাচার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘মিট দ্যা রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। তারা বলে ফিরিয়ে নেবে, কিন্তু বাস্তবে নেয় না। পৃথিবীর বড় দেশগুলো যদি চাপ দিতো, তাহলে হয়তো ফিরিয়ে নিতো। মিয়ানমারের কোনো দায়িত্ববোধ নেই। রাশিয়া ও চীন মূলত এ বিষয়টি নিয়ে তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি চায় না। তারা বলে, এটা তোমরা নিজেরা মিলে সমাধান করে নাও। তবে আমরা আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

আব্দুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের সিকিউরিটির জন্যই ভাসানচরে নিয়ে যেতে চাই। কিন্তু আন্তর্জাতিক এনজিও বাধা দিচ্ছে। তাদের প্ররোচণা দিচ্ছে, তোমরা সেখানে যেও না। কিন্তু রোহিঙ্গারা যেখানে থাকে, সেখানে যদি ভূমিধস হয়, সেই দায়িত্ব কে নেবে। পরে বিদেশিরা বলবে, বাংলাদেশ সরকার কিছুই করেনি। তবে আমরা রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে অটুট রয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর পাঁচজন খুনি এখনো পালিয়ে আছে। দু’জন খুনির অবস্থান জানি। একজন আমেরিকায় রয়েছে। আরেকজন কানাডায়। ইতোমধ্যে আমরা কানাডায় আইনজীবী নিয়োগ করেছি। এখনো খুব সুরাহা হয়নি। আমেরিকায় অবস্থানরত খুনিকে ফেরাতে আশা পেয়েছি। তাদের অ্যাটর্নি জেনারেলকে সব তথ্য পাঠিয়েছি, তারা একটা সিদ্ধান্ত দেবে।

পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি আটজন বাংলাদেশিকে ফেরত আনতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত রয়েছি। তাদের দেশে আনতে টাকাও পাঠিয়েছি। তারা ওমান থেকে পাকিস্তানে ঢোকে। তিনমাস জেলও দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। সেটা শেষ হয়েছে। পাকিস্তানে সরাসরি ফ্লাইট নেই, এখন তারা ওমানে যাবে। তারপর ওমান থেকে ফ্লাইটে দেশে আসবে।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে কতজন প্রবাসী দেশে ফেরত এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সময়ে ১ লাখ ৬০ হাজার প্রবাসী দেশে এসেছেন। অধিকাংশ এসেছেন সৌদি থেকে। কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার পর সৌদি চাপ দিল লোক নিয়ে যাও। সৌদি প্রথমে পাঠালো, যারা জেলে ছিল। যারা ক্রিমিনাল এদেরও পাঠালো। তবে সংখ্যা খুব কম।

‘প্রবাসীদের ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭শ কোটি দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে। যাতে প্রবাসীরা দেশে ব্যবসা করে। এছাড়া আমরা দেশ থেকে ৭০ কোটি টাকা নগদ দিয়েছি বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের। ’

বিদেশে টাকা পাচারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেখানে আলোচনা হবে। পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমাধান বলে আশাবাদী।

ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রচুর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়। কিন্তু সেই তুলনায় বাংলাদেশে সেটা অনেক কম। ধর্ষণও আমাদের দেশে প্রতি ১০ লাখে ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। কিন্তু ওপেন সেক্সের দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকায় সেটা আরো বেশি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ ভারত। তাদের সঙ্গে একটা সলিড রিলেশন। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবে। উন্নতি হলে কিছু শত্রুও বাড়বে। সেজন্য আমরা কাজও করছি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ ও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *