অপারেশন ‘লাইট স্ন্যাক্স ফর শেখ হাসিনা’

অপারেশন ‘লাইট স্ন্যাক্স ফর শেখ হাসিনা’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যে ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয় তার নাম দেওয়া হয়েছিল, ‘লাইট স্ন্যাক্স ফর শেখ হাসিনা’ (শেখ হাসিনাকে নাশতা করানো)। হামলার আগের দিন ২০ আগস্ট জঙ্গি সংগঠন হুজি সদস্য কাজল এবং আবু জান্দাল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে হামলার স্থান পরিদর্শন করে। ২১ আগস্ট, তারা বাড্ডায় একটি পুর্বনির্ধারিত বাড়িতে সাক্ষাৎ করে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে হামলাকারী কাজল ও আবু জান্দালের নেতৃত্বাধীন মোট ১২ জন ওই ঘটনায় অংশ নেবে। তারপর তারা একসঙ্গে নামাজ পড়বে এবং মধ্যাহ্ন ভোজ করবে। চূড়ান্ত বৈঠকের পর মাওলানা সাঈদ জিহাদের বক্তৃতা দেন। এরপর মুফতি হান্নান ১২ জন হামলাকারীর কাছে ১৫টি গ্রেনেড হস্তান্তর করেন।

আলোচনা অনুযায়ী আসরের নামাজের পর ঘাতক দলের সবাই গোলাপ শাহ মাজারের কাছে ফিরে যায়। এরপর তারা ট্রাকের চারপাশে অবস্থান নেয় যেখানে আওয়ামী লীগ নেতারা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। শেখ হাসিনার বক্তব্য শুরু হলে আবু জানদাল প্রথম গ্রেনেডটি নিক্ষেপ করে। তারপর, প্রত্যেকে নিজের গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ওই স্থান ত্যাগ করে। আগে থেকেই নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ায় হামলাকারীরা নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারে।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সেদিন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ঘটনার সময় দলীয় নেতা-কর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে তাকে রক্ষা করেন। শেখ হাসিনা তখন প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নৃশংস ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী  আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী প্রাণ হারান। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করেতেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল। অপারেশন ‘লাইট স্ন্যাক্স ফর শেখ হাসিনা’ যদি পুরোপুরি সফল হতো তাহলে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কেউই হয়তো বেঁচে থাকতো না।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *